
শিশুরা একদিন চাঁদে যাবে সেই প্রস্তুতি নিতে হবে : প্রধানমন্ত্রী
- আপলোড সময় : ০৭-০৭-২০২৪ ০৬:৪৭:১৪ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৭-০৭-২০২৪ ০৬:৪৭:১৪ অপরাহ্ন


শিশুরা যাতে ভবিষ্যতে চাঁদে যেতে পারে সেজন্য জ্ঞান-বিজ্ঞান ও গবেষণায় উৎকর্ষ সাধনের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য করে তুলতে এখন থেকেই প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমরা একদিন চাঁদে যাব। কাজেই এখন থেকেই সেভাবে তোমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, আজকের শিশুরাই হবে আগামীর স্মার্ট বাংলাদেশের কারিগর। গতকাল শনিবার জাতির পিতার ছেলেবেলার গিমাডাঙ্গা টুঙ্গিপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার উদ্বোধন’ ও ‘এসো বঙ্গবন্ধুকে জানি’ শীর্ষক অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট বেলা থেকেই মানুষের জন্য আলাদা একটা দরদ ছিল। অন্নহীন, ছিন্ন কাপড় পরিহিত মানুষ, থাকার জায়গা নেই, এই জিনিষগুলো তাঁকে খুব ব্যথিত করতো। সেজন্য ছোটবেলা থেকেই তিনি মানুষের জন্যই কাজ করতেন। নিজের জীবনের কোন সুখ, সুবিধা কিছুই দেখেন নি। শুধু একটাই চিন্তা ছিল এদেশের মানুষকে কীভাবে দারিদ্রের হাত থেকে মুক্তি দেবেন। কীভাবে একটা উন্নত জীবন দিবেন এবং ছোট্ট শিশুরা যাতে একটা সুন্দর জীবন পেতে পারে সেটাই তাঁর লক্ষ্য ছিল। তিনি বলেন, আমি মনে করি আজ যে উদ্যোগ এখানে নেয়া হয়েছে অথবা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন যেসব শিশু, তাদের আঁকা ছবি দিয়ে অ্যালবাম করা বা ছবির মাধ্যমে ইতিহাসকে যে তুলে ধরা- আসলে ছবিতো কথা বলে এবং এর মাধ্যমে শিশুদের ইতিহাস জানার সুযোগ হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়বো। আজকের ছোট শিশুরাই হবে আগামীর স্মার্ট বাংলাদেশের কারিগর। শিশুরাই হবে আসল স্মার্ট, তারাই দেশ চালাবে। আমরা এক সময় চাঁদেও যাবো। তাই সবাইকে এখন থেকে সেভাবেই প্রস্তুতি নিতে হবে, পড়াশোনা করতে হবে। তিনি বলেন, আমরা স্মার্ট বাংলাদেশ গড়বো। শিশুরাই হবে আসল স্মার্ট, তারাই দেশ চালাবে। আমরা একসময় চাঁদেও যাবো, সবাইকে এখন থেকে সেভাবেই প্রস্তুতি নিতে হবে, পড়াশোনা করতে হবে। এ সময় চমৎকার এ উদ্যোগের জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই উদ্যোগের ফলে ছোট শিশুরা স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধের অর্জন সম্পর্কে জানতে পারবে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু নিজের সুখ-শান্তি দেখেননি, মানুষের জন্যই কাজ করেছেন। লক্ষ্য ছিল কীভাবে মানুষকে উন্নত জীবন দেবেন, কীভাবে ছোট্ট শিশুরা সুন্দর জীবন পাবে। ছোট সোনামণিদের জন্য দোয়া রইলো। শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন, ‘আমাদের দুর্ভাগ্য ’৭৫-এর পর ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছে। মানুষের জানা উচিত, কিভাবে স্বাধীনতা পেলাম। স্বাধীনতার পরে যে কাজগুলো হয়েছে, সেগুলোও জানতে হবে। অনুষ্ঠান শেষে সেখান থেকে টুঙ্গিপাড়া পৌর সুপার মার্কেট পরিদর্শন করেন শেখ হাসিনা। বিকেলে জাতির পিতার সমাধিতে ফাতিহা পাঠ ও মোনাজাতে অংশ নেয়ার পর ঢাকায় ফিরেন প্রধানমন্ত্রী।
বঙ্গবন্ধু কর্নার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী: জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের ছেলেবেলার স্কুল গিমাডাঙ্গা টুঙ্গিপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু কর্নার উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী। পরে সেখানে ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার উদ্বোধন ও এসো বঙ্গবন্ধুকে জানি’ শীর্ষক অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন করেন তিনি। এর আগে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অধ্যয়নকৃত বিদ্যালয়ে পৌঁছলে শিক্ষার্থীরা তাকে স্বাগত জানায়। শেখ হাসিনা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের খোজ-খবর নেন। তিনি সেখানে কিছুক্ষণ সময় কাটান এবং শিক্ষার্থীদের নিয়ে বঙ্গবন্ধু কর্নার ঘুরে দেখেন, যেখানে জাতির ওপর রচিত বিভিন্ন বই রাখা হয়েছে। ১৯১২ সালে প্রতিষ্ঠিত গিমাডাঙ্গা টুঙ্গিপাড়া সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত স্কুল।
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ